– অ্যাডভেঞ্চার করার জন্য ছাত্রজীবনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। অ্যাডভেঞ্চারটা আরো জমবে যদি বন্ধুরা মিলে গড়তে পারেন একটা অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব। অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব করতে হলে নিয়মিত ঘোরাঘুরি করার ইচ্ছেটা থাকতে হবে সবার আগে। থাকতে হবে নতুন নতুন জায়গা দেখার আগ্রহ। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বাড়াতে হবে আউটিংয়ের অভিজ্ঞতা।
– একা একা কোনো অ্যাডভেঞ্চারে গেলে কোনো মজা নেই। ঘুরতে হবে দলবেঁধে। তা ছাড়া অ্যাডভেঞ্চারের সময় পারস্পরিক সমঝোতা ও অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাটাও জরুরি।
– অ্যাডভেঞ্চারের পোকা মাথায় থাকলে খরচ কোনো বিষয় নয়। নিজের যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়ার খরচ নিলেই হলো।
– সাধারণ ঘোরাঘুরিতে ফার্স্টএইড বঙ্, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ছাড়া বেশি কিছু নেওয়ার দরকার নেই। পাহাড়ে গেলে জুতা, ব্যাগ, লাঠি, তিন ব্যাটারির টর্চ, দড়ি, ছুরি ইত্যাদি নেওয়া ভালো। ক্যাম্পিং করতে প্রয়োজন তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ ইত্যাদি।
– অচেনা কোথাও গেলে সঙ্গে রাখা উচিত জিপিএস এবং অবশ্যই ম্যাপ। সবচেয়ে ভালো হয় সঙ্গে একজন গাইড থাকলে।
– কোথাও যাওয়ার আগে সেই জায়গা সম্পর্কে পূর্বধারণা, থাকা-খাওয়া ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জেনে যাওয়া উচিত। যেখানে যাচ্ছি, সেই জায়গার রীতিনীতি মেনে চলা উচিত।
– অভিযানের আগে বাসায় সব জানিয়ে যেতে হবে। নিজের সামর্থ্য এবং দুর্বলতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।
ঘুরতে পারেন
– আজও কোনো অভিযাত্রী সুন্দরবনের দক্ষিণ থেকে উত্তরের দিকে সরাসরি অতিক্রম করেননি। জিপিএস, ম্যাপ বা একজন গাইড নিয়ে এ অভিযানটি চালানো যেতে পারে।
– অরণ্যে যেতে চাইলে যেতে পারেন কুয়াকাটার একটু দূরেই ফাতরার বনে। গা ছমছম অভিযানের জন্য আদর্শ। ঢাকার গাবতলী থেকে বাসে করে কুয়াকাটা, এরপর সেখান থেকে ট্রলারে যাবেন ফাতরার বন। থাকতে হবে কুয়াকাটায়।
– মাধবকুণ্ডের ঝরনা দেখতে যাওয়ার পথে মাধবছড়া হয়ে যান। বনমোরগ, শূকর, হাতি ইত্যাদি দেখতে পাওয়া যাবে।
– লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেখা পাওয়া যাবে সংকটাপন্ন প্রজাতি উল্লুকের। এখানে আছে খাসিয়াপল্লী, পানের বরজ, নানা ধরনের জীববেচিত্র্য। হাতিরও দেখা পাবেন শ্রীমঙ্গলে।
– নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মনপুরার দ্বীপে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে লঞ্চে সরাসরি যাওয়া যায়। পাশেই হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ।
– হাকালুকির হাওড়ে করা যায় জলভ্রমণ। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কের উপর আছুরিঘাট থেকে নৌকা নিয়ে এ ভ্রমণে যাওয়া যাবে। পাবেন ‘আফাল’ নামের বিশাল ঢেউয়ের স্বাদ। সঙ্গে ঘুরে আসুন ফেঞ্চুগঞ্জ থেকেও।
– মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর হ্রদটিও বেড়ানোর জন্য অসাধারণ। ট্রেনে করে চলে যান শ্রীমঙ্গল। সেখান থেকে কমলগঞ্জের ভানুগাছ চৌমোহনা থেকে সোজা মাধবপুর হ্রদ। দেখার আছে শীতের অতিথি পাখি, চা বাগান এবং ধলই সীমান্তে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ। থাকতে হবে শ্রীমঙ্গলে।
– নির্ঝঞ্ঝাট ভ্রমণের জন্য কলাতলীর পেঁচার দ্বীপ হতে পারে গন্তব্য। এখানে আছে নয়নাভিরাম রিসোর্ট। কঙ্বাজার থেকে জিপে বা সিএনজিতে সহজেই যাওয়া যায় পেঁচার দ্বীপে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here