এসএম নাজমুল হক ইমন
অভাব ও অযত্ন-অবহেলায় নাটোরের চলনবিল জাদুঘর তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত চলনবিলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক এ জাদুঘরটির অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছরে সংরক্ষণের অভাবে ইতোমধ্যেই বিনষ্ট হয়ে গেছে জাদুঘরের অনেক দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও এলাকারবাসী সূত্র জানায়, চলনবিলের কৃতী সন্তান অধ্যক্ষ এমএ হামিদের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে ১৯৭৮ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা খুবজীপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় চলনবিল জাদুঘর। প্রথম পর্যায়ে ৮ শতাংশ জায়গা রেজিস্ট্রিমুলে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেই সঙ্গে চলনবিল তথা উপ-মহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংগ্রহ করে আনা হয় এ জাদুঘরে। যা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সংগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে বিদেশি অনুদানে জাদুঘরের পাকা দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। জাদুঘরে প্রবেশ পথেই রয়েছে চলনবিলের কৃতী সন্তান প্রখ্যাত ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকারের পোড়া মাটির আবক্ষয় মূর্তি।

এ ছাড়াও সংগৃহীত দুর্লভ নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে তুলট কাগজ ও গাছের ছালে লেখা প্রাচীন ও মধ্যযুগের পুঁথির পা-ুলিপি, বিভিন্ন সময়ের স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র ও ধাতব মুদ্রা, সুলতান নাসির উদ্দিনের নিজ হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরিফ, বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর ও পোড়া মাটির ভাস্কর্য মূর্তি, রাজা, সম্রাট, সুলতান ও নবাবদের ব্যবহৃত তরবারিসহ যুদ্ধাস্ত্র, রানী ভবানীর স্মৃতি চিহ্ন, মনসামঙ্গলের বেদি ও ঘট, বগুড়ার কবি মরহুম রুস্তম আলী কর্ণপুরীর দলিল-দস্তাবেজ ও উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে সংগৃহীত ঐতিহাসিক নিদর্শন।

যেভাবে যাবেন
একদিন সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চলনবিল জাদুঘর। দেখে আসতে পারেন সেখানে সংগ্রহ করে রাখা দুর্লভ সব নিদর্শন। ঢাকার শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে খুব সকালে নাটোরের উদ্দেশে রওয়ানা দিতে পারেন। সারাদিন ঘুরে-ফিরে বিকেলের গাড়িতে ফিরে আসতে পারেন। নাটোরে বেশ কয়েকটি ভালোমানের আবাসিক হোটেলও রয়েছে, রাতে থাকতে চাইলে সেখানে থাকতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here