ফারজানা আক্তার
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনা নয়, পাশাপাশি মানসিক বিকাশ লাভের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে কালচারাল ক্লাব, মুভি ক্লাব, চ্যারিটি ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, রাইটার্স ক্লাব এবং অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব। অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব বছরে অন্তত তিনবার বিভিন্ন জেলার ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় জায়গায় ভ্রমণ করে থাকে। এতে করে ছাত্ররা নতুন জায়গা সম্পর্কে জানতে পারে এবং দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করে নিজের জ্ঞানকে বিকশিত করার সুযোগ পায়। অ্যাডভেঞ্চারের অংশ হিসেবে আমরা গত মার্চে ঢাকা থেকে সড়ক পথে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় যাই। এখানকার দরিরামপুর আর কাজীর সিমলা গ্রামে কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি রয়েছে। দরিরামপুর হাইস্কুলে কবি বেশ কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন, বর্তমানে স্কুলটি ডিগ্রি কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে। সেখানে গিয়ে জেনেছি অনেক কিছু। দরিরামপুর বাজার থেকে সামান্য দূরে বেপারী বাড়ি, এখানে নজরুল জায়গীর থাকতেন। এটি ত্রিশালের ছিলমপুর গ্রামে অবস্থিত। একটু এগোলেই চোখে পড়বে শকুনির বিল। বিলের পশ্চিম পাশে রয়েছে বিশাল এক বটগাছ। এই গাছের নিচে বসে কবি বাঁশি বাজাতেন। শকুনি বিলের পারে এই বটতলায় বসে নজরুল তার ছোট গল্প অগি্নগিরি লিখেছিলেন। এখানেই নজরুল পদ্ম গোখরার মতো গল্পের এবং লিচু চোরের মতো কবিতার উপাদান খুঁজে পেয়েছিলেন। ত্রিশাল ভ্রমণের পর আমরা বেড়াতে যাই মুক্তাগাছার জমিদার বাড়ি। ত্রিশাল থেকে এটি ত্রিশ মিনিটের পথ। মোগল আমলে এই অঞ্চলের বিস্তৃতি ঘটে এবং বর্তমান মুক্তাগাছা থানা সেকালে আলাপসিং পরগনা নামে পরিচিত ছিল। আলাপসিং পরগনা খাজনার দায়ে নিলামে উঠলে মুর্শিদাবাদ সরকারের কর্মচারী শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী নিলামে কিনে নিয়ে তার নিজ নামে বন্দোবস্ত নেন। মুক্তগাছার জমিদারদের রাজবাড়ী প্রায় আড়াইশ’ বছরের পুরনো। বিশাল জমিদার বাড়ি কয়েকটি খণ্ডে বিভক্ত। বিভিন্ন অংশে বর্তমানে সরকারি কলেজ, আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়, রেজিস্ট্রি অফিস ও মু্িক্তযোদ্ধা সংসদ অফিস রয়েছে। তবে মুক্তগাছার জমিদার বাড়ির ভিতরের পরিবেশ মোটেই ভালো নয়। এসব দেখা শেষে মুক্তাগাছা থেকে আমরা ময়মনসিংহ শহরে চলে আসি। শহরের প্রাণকেন্দ্র এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পারে এক অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা। সংগ্রহশালাটি সমৃদ্ধ করা হয়েছে শিল্পাচার্যের শিল্পকর্ম দিয়ে। খাবার শেষে আমরা ঘুরতে যাই ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। সন্ধ্যার পর চারপাশের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে আমাদের গাড়ি ঢাকার দিকে এগোতে থাকে। আমরা নব্বই জন সদস্য দু-পাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে রাত ১০টা ঢাকায় পেঁৗছে যাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here