পৃথিবীর সুন্দরতম দেশ কোনটি? আপনার মাথায় প্রথমেই আসতে পারে সুইত্‍‌জারল্যান্ড, কানাডা, নিউ জিল্যান্ড বা নরওয়ে। তাহলে আপনার ধারণা ভুল। বিশ্বের সুন্দরতম দেশটির নাম স্কটল্যান্ড।

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ৭ দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে ভ্রমণবিষয়ক খ্যাতনামা একটি ম্যাগাজিন। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর দেশ বাছাইয়ের জন্য ভোটের ব্যবস্থা করেছিল আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পত্রিকা রাফ গাইড।

পর্যটন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সভ্যতা, আবহাওয়া, ঐতিহাসিক গুরুত্বসহ আরও বেশকিছু বিষয়ের ওপর লক্ষ্য রেখে প্রকাশ করা হয়েছে এ তালিকা।

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পত্রিকা রাফ গাইড সম্প্রতি একটি ভোটের ব্যবস্থা করে। বিশ্বের সুন্দরতম দেশের একটি তালিকা তৈরি করে তারা। তাতে ২০টি দেশ, যেখানে পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি যান, সেই দেশগুলিকে রাখা হয়। দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে প্রথমে স্কটল্যান্ড।

আবহাওয়া, সাইট সিন, রাস্তা, পর্যটন ব্যবস্থা, সভ্যতা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিলাসিতা– সব কিছুকেই রাখা হয়েছিল বিচার্য বিষয়ে। বিচার্য সব বিষয়েই একের তকমা পেয়েছে গ্রেট ব্রিটেনের এই দেশ। ৭ নম্বরে রয়েছে ইংল্যান্ড। পিছনে ফেলে দিয়েছে ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইত্‍‌জারল্যান্ডের নাম।

এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন ব্যবস্থা সর্বোপরি ভ্রমণের উপযুক্ত আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে সুন্দর দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ০১. স্কটল্যান্ড ২.কানাডা, ৩.নিউজিল্যান্ড, ৪. ইতালি, ৫. সাউথ আফ্রিকা, ৬. ইন্দোনেশিয়া ও ৭. ইংল্যান্ড।

পর্যটকরা বলছেন, স্কটল্যান্ডে বেশির ভাগ দেখার জিনিসই তাদের নিজস্ব, প্রাকৃতিক ভাবেই তৈরি। কোনও কৃত্রিমতা নেই।

এক নজরে স্কটল্যান্ড
কটল্যান্ড (ইংরেজি ভাষায় Scotland স্কট্‌ল্যান্ড্‌, স্কটিশ গ্যালিক ভাষায় Alba আলাপা) যুক্তরাজ্যের একটি অংশ। এটি গ্রেট ব্রিটেনের উত্তর তৃতীয়াংশে অবস্থিত।[১২][১৩][১৪] এটা দক্ষিণে ইংল্যান্ডের সঙ্গে একটি সীমানা ভাগ করে, এবং অন্যথায় এটি দক্ষিণ পশ্চিমে পূর্ব এবং উত্তর চ্যানেল এবং আইরিশ সাগর, উত্তর সাগর সঙ্গে, আটলান্টিক মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। মূল ভূখন্ড থেকে উপরন্তু, দেশটি উত্তর দ্বীপপুঞ্জ এবং গেব্রি্স সহ আরো ৭৯০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত।[১৫]

এডিনবরা, দেশের রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, ১৮ শতকে স্কটিশ নবজাগরণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যা স্কটল্যান্ডকে ইউরোপে বাণিজ্যিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং শিল্প শক্তিকেন্দ্রগুলোর একটিতে রুপান্তরিত করে। গ্লাসগো, স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম শহর,[১৬] একসময়কার বিশ্বের নেতৃস্থানীয় শিল্প শহর ছিল। স্কটিশ পানি সীমা উত্তর আটলান্টিক এবং উত্তর সাগর একটি বড় সেক্টর গঠিত,[১৭] ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বৃহত্তম তেল মজুদ রয়েছে। এজন্যই অ্যাবরদিনকে, স্কটল্যান্ড তৃতীয় বৃহত্তম শহর, ইউরোপের তেল রাজধানী বলা হয়।[১৮]

১৬০৩ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের রাজবংশ রাজা প্রথম জ্যাকবের অধীনে একত্রিত হয়। ১৭০৭ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের আইনসভা একত্রিত হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত স্কটল্যান্ড নিজস্ব বিচারব্যবস্থা, নিজস্ব গির্জা, নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থা, এমনকি নিজস্ব টাকা ধরে রেখেছে। ১৯৯৯ সাল থেকে স্কটল্যান্ডের নিজস্ব আইনসভা রয়েছে এবং তখন থেকে দেশটি স্বায়ত্বশাসিত।

স্কটল্যান্ডের উত্তরে আটলান্টিক মহাসাগর, পূর্বে উত্তর সাগর, দক্ষিণ-পূর্বে ইংল্যান্ড, দক্ষিণে সলওয়ে ফার্থ ও আইরিশ সাগর এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর ও নর্থ চ্যানেল, যা আয়ারল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত। ভূ-রাজনৈতিক একতার ভিত্তিতে প্রায় ১৮৬টি দ্বীপ স্কটল্যান্ডের শাসনাধীন, যাদেরকে মোটামুটি তিনটি দলে ভাগ করা যায়। একটি হল স্কটল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত হেব্রাইডস দ্বীপপুঞ্জ (অন্তঃস্থ ও বহিঃস্থ), উত্তর সাগরে অবস্থিত অর্ক্‌নি দ্বীপপুঞ্জ, এবং অর্ক্‌নি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ। বাকী দ্বীপগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়টির নাম আরান দ্বীপ; এটি স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে ক্লাইড ফার্থ বা ক্লাইড উপসাগরে অবস্থিত। দ্বীপগুলিকে গণনায় ধরে স্কটল্যান্ডের মোট আয়তন ৭৮,০৮০ বর্গকিলোমিটার। অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলির আয়তন প্রায় ১,৫০০ বর্গকিলোমিটার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here