আহসান মঞ্জিল এর অবস্থান: বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে পুরানো ঢাকার ইসলামপুর এলাকায় আহসান মঞ্জিল অবস্থিত। এটি ব্রিটিশ ভারতের উপাধিপ্রাপ্ত ঢাকার নবাব পরিবারের বাস ভবন ও সদর কাচারি ছিল। অনবদ্য অলংকার সমৃদ্ধ সুরম্য এ ভবনটি ঢাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন। ঐতিহাসিক ঢাকা মহানগরীর উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ক্রমবিকাশের বহু স্মরণীয় ঘটনাসহ অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি বিজড়িত প্রাসাদ ভবন ‘আহসান মঞ্জিল’।

ঊনিশ শতকে ঢাকায় নির্মিত ইমারতের মধ্যে আহসান মঞ্জিল সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার দিকে প্রাকৃতিক দৃশ্য শোভিত প্রাসাদের মনোরম অঙ্গন বিস্তৃত। সমগ্র আহসান মঞ্জিলটি দুটি অংশে বিভক্ত। পূর্বপাশের গম্বুজযুক্ত অংশকে বলা হয় প্রাসাদ ভবন বা রংমহল। পশ্চিমাংশের আবাসিক কোষ্ঠাদি নিয়ে গঠিত ভবনকে বলা হয় অন্দরমহল। প্রাসাদ ভবনটি আবার দুটি এর পূর্বাংশে দোতলায় বৈঠকখানা, গ্রন্থাগার, কার্ডরুম ও তিনটি মেহমান কক্ষ এবং পশ্চিমাংশে সুষম অংশে বিভক্ত। মাঝখানে গোলাকার কক্ষের উপর অষ্টকোণ বিশিষ্ট উঁচু গম্বুজটি অবস্থিত। একটি নাচঘর, হিন্দুস্থানী কক্ষ এবং কয়েকটি আবাসিক কক্ষ রয়েছে। নিচতলায় পূর্বাংশে আছে ডাইনিং হল, পশ্চিমাংশে বিলিয়ার্ড কক্ষ, দরবার হল ও কোষাগার। প্রাসাদ ভবনের উভয় তলায় উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে প্রসারিত বারান্দা। ইসলামপুর রাস্তার পার্শ্বে নবাবদের নির্মিত নহবতখানাটি ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ায় তা পুনঃনির্মিত হয়।

বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ বা বুড়িগঙ্গা সেতু থেকে প্রায় একই সময় লাগে এই আহসান মঞ্জিল এ আসতে। পায়ে হেঁটে এর প্রত্যেকটা জায়গা থেকে আহসান মঞ্জিল এ আসতে প্রায় দশ থেকে পনের মিনিট সময় লাগবে। আহসান মঞ্জিল এর গা ঘেষে রয়েছে দেশের বৃহত্তম ফলের আড়ত।

আহসান মঞ্জিল এর ইতিহাস: আঠার শতকের প্রথমদিকে জালালপুর পরগনার (বর্তমান ফরিদপুর-বরিশাল) জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের স্থানে এক প্রমোদ ভবন তৈরি করেন। শেখ ইনায়েতউল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র শেখ মতিউল্লাহ সেটি ফরাসী বণিকদের নিকট বিক্রি করে দেন। ফরাসীরা এখানে তাদের বাণিজ্যকুঠি নির্মাণ করেন। খাজা আলীমুল্লাহ ১৮৩০ সালে ফরাসীদের নিকট থেকে কুঠিটি ক্রয়পূর্বক সংস্কারের মাধ্যমে নিজ বাসভবনের উপযোগ্য করেন। নবাব খাজা আলীমুল্লাহর ছেলে নবাব আবদুল গনি ১৮৬৯ সালে প্রাসাদটি পুনঃ নির্মাণ করেন। নবাব আবদুল গনি তার প্রিয় পুত্র খাজা আহসানুল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন ‘আহসান মঞ্জিল।’ সে আমলে ঢাকায় আহসান মঞ্জিলের মত এত জাঁকালো ভবন আর ছিল না। ইসলামপুর রাস্তার পার্শ্বে নবাবদের নির্মিত নহবতখানা এই আহসান মঞ্জিল ১৮৮৮ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ভেংগে পড়লে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। দুবারেই তা পুনঃনির্মাণ করা হয়। জমিদারী উচ্ছেদ আইনে ১৯৫২ সালের ১৪ মার্চ সরকার ঢাকার নবাব এস্টেট অধিগ্রহণ করেন। নবাব পরিবারের সম্পত্তির মধ্যে অধিগ্রহণ বহির্ভূত ছিল আহসান মঞ্জিল ও তৎসংলগ্ন আংগিনা। ১৯৫৮ সালে নবাব খাজা হাবিবুল্লার মৃত্যুর সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত ঢাকার নবাব পদবির কার্যকারিতা ও সম্মান যেমন শেষ হয়ে যায় তেমনি অস্তমিত হয় আহসান মঞ্জিলের অতীত গৌরব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নবাব পরিবারের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা বিদেশে পাড়ি জমায়। এদেশে যারা ছিল তারা এ বিরাট প্রাসাদ রক্ষণাবেক্ষণে সক্ষম ছিল না। ফলে এটি ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে এবং নোংরা ও অসহনীয় পরিবেশে এককালের নয়নাভিরাম প্রাসাদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় ১৯৭৪ সালে নবাব পরিবারের উত্তরসূরীগণ আহসান মঞ্জিল নিলামে বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাদুঘরের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭৪ সালের ২ নভেম্বর উক্ত প্রাসাদ ভবন নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল করে সংস্কারপূর্বক এখানে জাদুঘর ও পর্র্যটনকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন। ১৯৮৫ সালের ৩ নভেম্বর আহসান মঞ্জিল প্রাসাদ ও তৎসংলগ্ন চত্বর সরকার অধিগ্রহণ করার পর সেখানে জাদুঘর পক্ষ থেকে জাদুঘরে গ্রহণযোগ্য মালামালের একটি তালিকা তৈরি করে ভূমি প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রদান করা হয়। ‘আহসান মঞ্জিলের সংস্কার’ সৌন্দর্যবর্ধন ও জাদুঘরে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরম্ভ হয় ১৯৮৬ সালের মার্চ মাসে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস ও স্থাপত্য নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল ভবনটির সংস্কার করে জাদুঘরে রূপান্তর করা এবং প্রাসাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবনটির পারিপার্শ্বিক এলাকার উন্নয়ন করা প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এ প্রকল্পের নির্বাহী সংস্থা ছিল বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্ব বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওপর যৌথভাবে ন্যস্ত ছিল। সংস্কার সংরক্ষণ কাজ গণপূর্ত প্রদর্শনী উপস্থাপনের মাধ্যমে জাদুঘরে রূপান্তরের কাজ সম্পাদন করে বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর। ১৯৯২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়াহয়।

প্রদর্শনী গ্যালারিসমূহঃ
গ্যালারি ১. আহসান মঞ্জিল পরিচিতি ১, গ্যালারি ২. আহসান মঞ্জিল পরিচিতি ২, গ্যালারি ৩. প্রাসাদ ডাইনিং রুম, গ্যালারি ৪. গোলঘর, গ্যালারি ৫. নিচতলা প্রধান সিঁড়িঘর, গ্যালারি ৬. আহসানুল্লাহ মেমোরিয়াল হাসপাতাল, গ্যালারি ৭. মুসলিম লীগ কক্ষ, গ্যালারি ৮. বিলিয়ার্ড কক্ষ, গ্যালারি ৯. সিন্দুক কক্ষ, গ্যালারি ১০. নবাব পরিচিতি, গ্যালারি ১০. (ক) কোনার সিঁড়ি ঘর গ্যালারি ১১. প্রতিকৃতি ১, গ্যালারি ১২. নবাব সলিমুল্লাহ স্মরণে, গ্যালারি ১৩. প্রতিকৃতি ২, গ্যালারি ১৪. হিন্দুস্থানী কক্ষ, গ্যালারি ১৫. প্রধান সিঁড়ি ঘর। (দোতলা). গ্যালারি ১৬. লাইব্রেরী কক্ষ, গ্যালারি ১৭: কার্ডরুম, গ্যালারি ১৮. নবাবদের অবদানে ঢাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা, এর আগে ঢাকায় ফিল্টার করা পানীয় জল ব্যবহারের কোন সুযোগ ছিল না। জনকল্যাণমনা নবাব আবদুল গনি আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে তখন ঢাকা শহরে ফিল্টার পানির কল স্থাপন করেন), গ্যালারি ১৯. স্টেট বেডরুম, গ্যালারি ২০. নবাবদের অবদানে ঢাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (এখান থেকে জানা যায় এদেশে কখন কিভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার চালু হয়। ১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা ব্যয় করে ঢাকায় প্রথম বিজলি বাতির ব্যবস্থা করেন, গ্যালারি ২১. প্রাসাদ ড্রইং রুম, গ্যালারি সংখ্যা ২৩ টি।

গ্যালারি সময়সূচি: গ্রীষ্মকাল সকাল ১০.৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫.৩০ মিনিট, শীতকাল সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকাল ৪.৩০ মিনিট, সব ঋতুতে শুক্রবার বিকেল ৩.০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭.০০ টা পর্যন্ত।

টিকেটের মূল্যঃ প্রাপ্ত বয়স্ক বাংলাদেশী দর্শক ৫.০০ টাকা, বাংলাদেশী শিশু দর্শক ২.০০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশীয় দর্শক ৫ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশী দর্শক ৭৫.০০ টাকা। পূর্ব থেকে আবেদন করলে ছাত্র ছাত্রীদের বিনামূল্যে জাদুঘর দেখতে দেয়া হয়। বহিরাঙ্গনে ভাড়ার বিনিময়ে চলচ্চিত্রায়ন করা যায়। একজন গাইড লেকচারার দর্শকদের প্রদর্শনী বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নিয়োজিত। গ্যালারিতে মিষ্টি মধুর সংগীতের সুর বাজতে থাকে। একজন দর্শক এখানে এসে ভ্রমণের মাধ্যমে চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি ঐতিহাসিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

পরিদর্শনের সময়সূচী

  • গ্রীষ্মকালীন সময়সূচী: (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) – (শনিবার-বুধবার) সকাল ১০.৩০ টা – বিকাল ৫.৩০ টা। শুক্রবার- বিকেল ৩.০০ টা – সন্ধ্যা ৭.৩০ টা।
  • শীতকালীন সময়সূচী: (অক্টোবর –মার্চ) – (শনিবার-বুধবার) সকাল ৯.৩০ টা – বিকাল ৪.৩০ টা। শুক্রবার – দুপুর ২.৩০ টা – সন্ধ্যা ৭.৩০ টা।
  • বৃহস্পতিবার – সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন জাদুঘর বন্ধ থাকবে।

 

টিকেট কাউন্টার

আহসান মঞ্জিলের পূর্ব পাশে যে ফটকটি উন্মূক্ত, তার ডান পাশে টিকেট কাউন্টার অবস্থিত। কাউন্টার হিসেবে যেসব কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে , পূর্বে এগুলো সৈনিকদের ব্যারাক ও গার্ডরুম ছিল।

 

টিকেটের মূল্য তালিকা

প্রাপ্ত বয়স্ক বাংলাদেশি দর্শক = ৫ টাকা জনপ্রতি, অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাংলাদেশি শিশু দর্শক (১২ বছরের নিচে) = ২ টাকা জনপ্রতি, সার্কভুক্ত দেশীয় দর্শক = ৫ টাকা জনপ্রতি, অন্যান্য বিদেশি দর্শক = ৭৫ টাকা জনপ্রতি, উল্লেখ্য যে, প্রতিবন্ধি দর্শকদের জন্য কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না ও পূর্ব থেকে আবেদনের ভিত্তিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে জাদুঘর দেখতে দেয়া হয়।

আহসান মঞ্জিল জাদুঘর ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা টিকিটে প্রবেশ করতে দেয়া হয়ে থাকে।

অগ্রিম টিকিটের কোন ব্যবস্থা নেই। তবে উল্লিখিত দিনগুলোতে আহসান মঞ্জিল বন্ধ হওয়ার ৩০ মিনিট আগ পর্যন্ত টিকেট সংগ্রহ করা যায়।

 

দর্শনীয় জিনিস

ঢাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন হলো আহসান মঞ্জিল। নবাব পরিবারের স্মৃতি বিজড়িত এই প্রাসাদটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমানে আহসান মঞ্জিলের মূল প্রাসাদটি গ্যালারি আকারে রূপান্তর করা হয়েছে। মোট গ্যালারি ২৩ টি। ১৯০৪ সালে তোলা ফ্রিৎজকাপের আলোকচিত্র অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষ ও গ্যালারীগুলো সাজানো হয়েছে।

গ্যালারি নং বিবরণ
০১. উনিশ শতকের সৈনিকের বর্ম, ভবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, সংস্কারপূর্ব ও পরবর্তী আলোকচিত্র ও পেইন্টিং। আহসান মঞ্জিল নিলামে বিক্রির জন্য এবং নতুন ভবন তৈরির নির্দেশ নামা।
০২. নবাবদের ব্যবহৃত আলমারি, তৈজসপত্র, ফানুস ও ঝাড়বাতি।
০৩. প্রাসাদ ডাইনিং রুম, নবাবদের আনুষ্ঠানিক ভোজন কক্ষ্ এটি।
০৪. বক্ষস্ত্রান ও শিরস্ত্রান, হাতির মাথার কংকাল (গজদন্তসহ), অলংকৃত দরমা বেড়া/কাঠ ছিদ্র অলংকরন সম্বলিত।
০৫. প্রধান সিড়িঘর নিচতলা। দরজার অলংকৃত পাল্লা, ঢাল-তরবারি, বল্লম, বর্শাফলক।
০৬. স্যার আহসানুল্লাহ জুবিলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক কিছু সরঞ্জামাদি ও খাতপত্র এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।
০৭. মুসলিম লীগ কক্ষ। এ কক্ষটি নবাবদের দরবার হল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকালে শাহবাগের সম্মেলনে আগত সর্ব ভারতীয় মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দর একটি বড় তৈলচিত্র এই গ্যালারিতে আছে।
০৮. বিলিয়ার্ড কক্ষ। ১৯০৪ সালে তোলা আলোকচিত্র অনুযায়ী বিলিয়ার্ড টেবিল, লাইটিং ফিটিংস, সোফা ইত্যাদি তৈরি করে সাজানো হয়েছে।
০৯. সিন্দুক কক্ষ- ঢাকার নবাবদের কোষাগার হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষ। এতে আছে ৯৪ লকার বিশিষ্ট বৃহদাকার লোহার সিন্দুক। বড় কাঠের আলমারি ও মাঝারি ও ছোট কয়েকটি সিন্দুক। লোহার গ্রীল, দরজার পাল্লা ইত্যাদি।
১০. নওয়াব পরিচিতি- এই গ্যালারিতে ঢাকার নওয়াব পরিবারের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের পরিচিতি ও বংশ তালিকা এবং নবাবদের কাশ্মীরবাসী আদিপুরুষ থেকে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত বংশ তালিকা ও ইংরেজীতে লেখা আহসানউল্লাহর ডায়েরি ও উর্দূতে জমি পত্তন দেয়ার দলিল।
১১. প্রতিকৃতি- এই গ্যালারিতে খ্যাতনামা, দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ, সমাজসেবী, ভূস্বামী, বুদ্ধিজীবী, সমাজসংস্কারক, কবি সাহিত্যিক ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের তৈলচিত্র ছবি রয়েছে।
১২. নওয়াব সলিমুল্লাহ স্মরণে- নওয়াব সলিমুল্লাহর ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র, নবাবের ব্যবহার্য ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল জিনিস।
১৩. প্রতিকৃতি- নবাব পরিবারের সদস্যগণদের অন্দর মহলে প্রবেশ করার জন্য রংমহল থেকে পশ্চিমাংশের একটি গ্যাংওয়ের মাধ্যমে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে তা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বন্ধ।
১৪. হিন্দুস্তানি কক্ষ-১৯০৪ সালে ফ্রিৎজকাপের তোলা আলোকচিত্র অবলম্বনে এই গ্যালারি নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলিতেছে।
১৫. প্রধান সিড়িঘর দোতলা- সাদা সিমেন্টের ভাস্কর্য, আলোকচিত্র ও খোদাই করা কাঠের সিড়ি লাল গালিচার্য এবং ছাদে কাঠের অলংকৃত সিলিং।
১৬. লাইব্রেরি কক্ষ- এই গ্যালারির সংস্কার কাজ চলছে।
১৭. কার্ডরুম- ঢাকার নওয়াবদের তাশ খেলার কক্ষ। সংস্কার চলছে।
১৮. নবাবদের অবদান ঢাকায় পানিয় জলের ব্যবস্থা। এ কক্ষটি গেষ্টরুম হিসেবে ব্যবহার হতো। এখানে পানির ড্রাম, আইসক্রীম, বালতি, কফি তৈরির মেশিন, কফির কাপ, কুলফি গ্লাস, পানির ট্যাপ, অলংকৃত বালতি রয়েছে।
১৯. স্টেট বেডরুম-রাজকীয় অতিথীদের থাকা ও বিশ্রামের জন্য এই বেডরুম, শোবার খাট, আলমারী, ঘড়ি, ড্রেসিং টেবিল, আয়না, তাক, টেবিল-চেয়ার এখানে রয়েছে।
২০. নওয়াবদের অবদান ঢাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ঢাকায় বিদ্যুৎ, কেরোসিন বাতি, হারিকেন চুল্লি, হারিকেন সার্চ বাতি, দেশে বিদেশে জনকল্যাণ কাজে ঢাকার নওয়াবদের অর্থদানের বিবরণ, সিগন্যাল বাতি, বিভিন্ন দেশী বৈদ্যুতিক বাল্ব, কেরোসিন চালিত পাখা, বিভিন্ন প্রকার কাঁচের লাইট, মোমবাতি ষ্ট্যান্ড, ফানুস ইত্যাদি।

 

আহসান মঞ্জিল জাদুঘরের গাইড ব্যবস্থা

নবাববাড়ি জাদুঘরে দর্শনার্থীদের জন্য গাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। নিম্নলিখিত সময়ে অভ্যর্থনা কক্ষে একত্রিত হলে গাইডগন দর্শকদের নিদর্শন বুঝিয়ে দিয়ে থাকেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here