॥ ট্রাভেলঅন২৪ ডটকম ডেস্ক ॥ ক্যাটাগরি অনুযায়ী আবার ভ্রমণ ভিসা চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে এখন ইচ্ছা করলেই যে কেউ আরব আমিরাতে যেতে পারবে না। নতুন কিছু শর্ত মেনেই পর্যটক বা ভ্রমণ ভিসায় আরব আমিরাত যেতে হবে।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের জন্য দীর্ঘদিন এ ধরনের ভিসা বন্ধ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে শর্তসাপেক্ষে আবারও ভ্রমণ, ট্রানজিট ও সম্মেলন ভিসা চালু হলো। সম্প্রতি আমিরাতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সে দেশের সংবাদপত্র গালফ নিউজ এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

আমিরাতের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জানান, ইলেকট্রিশিয়ান, পাইপফিটার, কৃষক, ড্রাইভার, ক্লিনার, দর্জি এসব পেশার লোকজন ভ্রমণ, পর্যটক ও সম্মেলন ভিসায় আমিরাতে আসতে পারবে না। ব্যাংকে যাঁদের পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা জমা আছে এবং যাঁরা আমিরাতের আইনে ভ্রমণ বা সম ক্যাটাগরির ভিসা পাওয়ার যোগ্য তাঁরা প্রমাণসাপেক্ষে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকতে হবে। সঙ্গে অন্যান্য যোগ্যতা।

তা ছাড়া কোনো ব্যক্তি আমিরাতে নিকটাত্মীয়দের সাময়িক সময়ের জন্য নিয়ে আনতে চাইলে তাদের ১০ হাজার দিরহাম (আনুমানিক দুই লাখ ২০ হাজার টাকা) ডিপোজিট অথবা প্রয়োজনবোধে ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট জামানত রাখতে হবে। পাসপোর্টে যাঁরা নিজের সঠিক পেশার তথ্য গোপন রাখবেন তাঁদের কঠোর আইনে শাস্তি দেওয়ার বিধান আছে বলে আমিরাত ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়।

ওই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে তাদের ভ্রমণ ভিসা বন্ধ করতে হয়েছিল। কেননা ভ্রমণ, পর্যটক ও সম্মেলন ভিসায় আমিরাতে এসে প্রবাসীদের অনেকে চাঁদাবাজি, ভিক্ষাবৃত্তিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। ফলে তারা বাধ্য হয়ে ভ্রমণ ভিসাসহ পর্যটক, সম্মেলন ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি আরো বলেন, প্রকৃত ভ্রমণকারী এবং আমিরাতের নাগরিকদের জন্য এক ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছিল ওই প্রবাসীরা। তাই সবার নিরাপত্তায় আমিরাত ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

ভ্রমণ বা পর্যটক ভিসা প্রদান প্রসঙ্গে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন থেকে আমিরাতের আওতাধীন হোটেল বুকিং, এয়ারলাইনস টিকিট, ট্রাভেল এজেন্ট ও বিভিন্ন ট্যুর কম্পানির মাধ্যমে ভিসা নেওয়া যাবে। তবে ভিসা নিয়ে এসব লোক ফিরে না গেলে তার দায়দায়িত্ব ওই প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। এজন্য জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আমিরাত সরকারের কঠোর আইন রয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইনসহ যেসব দেশ আমিরাতে জনশক্তি রপ্তানি করে তাদের জন্য এই আইন কঠোরভাবে প্রযোজ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাত পুলিশের অভিযানে যেসব অবৈধ ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে এদের অনেকে ভ্রমণ, পর্যটক ও সম্মেলন ভিসায় এসে ফিরে না যাওয়া লোকজন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কর্মকর্তা লতিফুল হক কাজমি জানান, আরব আমিরাতে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণেই ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর হচ্ছে সরকার। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মনোভাব দেখে এ রকমই মনে হয়। তবে গৃহকর্মীর ভিসা এখনো প্রদান করছে আমিরাত সরকার।

দুবাই কনস্যুলেটের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জনশক্তি রপ্তানি করা একশ্রেণীর ব্যবসায়ী শ্রমিকদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে এখানে লোক পাঠায়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পারিশ্রমিক না পেয়ে প্রতারণার শিকার ওই শ্রমিকরা লেবার ইমিগ্রেশন অথবা আদালতে অভিযোগ করেন। আবার কেউ কেউ সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে কাজ করে উপার্জন বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ফলে আমিরাতে এখন প্রায় দেড় লাখ অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশী আছেন। যাঁদের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। আর নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমিরাত সরকার ভিসা দেওয়া সীমিত করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here