আহমেদ কুতুব
ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামের বেসরকারি বিনোদন ও পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণপিয়াসীদের স্বাগত জানাতে পুরোদমে প্রস্তুত। নগরীর প্রায় ১০ লাখ মানুষকে আকৃষ্ট করতে বেসরকারি মালিকানাধীন বিনোদন কেন্দ্র গুলো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি মালিকানাধীন বিনোদনস্পটগুলোয় নেই ঈদের আমেজ।
এ প্রসঙ্গে কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্টের মহাব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড ও সি ওয়ার্ল্ডকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর ঈদের বিশেষ কনসার্ট ও লেকে বোট নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া ঈদের পর থেকে টানা ৯ দিন সি ওয়ার্ল্ডে ডিজে শোর আয়োজন রাখা হয়েছে। ফয়’স লেকে ঈদের পর প্রতিদিনই প্রচুর লোকসমাগম হয়ে থাকে। এবার লোক সমাগম আরো বাড়াতে রিসোর্টগুলোয় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ সিটি করপোরেশন পরিচালনাধীন স্বাধীনতা পার্কের পরিচালক স্থপতি রেজাউল করিম বলেন, ‘নগরীর প্রায় ১০ লাখ ভ্রমণপিয়াসী মানুষ ঈদের পর বিনোদনকেন্দ্রগুলো ঘুরে থাকেন। এ চিন্তা মাথায় রেখে স্বাধীনতা পার্কে নামমাত্র মূল্যে বিনোদন প্রেমীরা ২৪ তলা উঁচু ভবনের রিভলবিং (ঘূর্ণায়মান) টাওয়ার থেকে কর্ণফুলী নদী, বঙ্গোপসাগরসহ পুরো চট্টগ্রাম শহর দেখতে পারবেন। ঘূর্ণায়মান রেস্তোরাঁয় বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও থাকছে। পার্কের লেকে ও ঝরনায় আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, রংতুলির আঁচড়ে এবং ইট, বালি ও সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুঙ্করভাবে সাজাতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নগরীর আধুনিক বিনোদন পার্ক ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড, সি ওয়ার্ল্ডে সাজ সাজ রব। এ ছাড়া বাটারফ্লাই পার্ক, কালুরঘাট স্বাধীনতা পার্ক, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশুপার্ক, কাজীর দেউরী শিশুপার্ককে দেওয়া হয়েছে নতুন রূপ। কিন্তু সরকারি মালিকানাধীন নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, সিআরবি পাহাড়, ওয়ার সিমেট্রি, ডিসি হিলে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি মালিকানাধীন পর্যটন স্পটগুলো করুণ অবস্থায় পড়ে আছে স্বীকার করে পর্যটন করপোরেশন চট্টগ্রামের ম্যানেজার সাইফুর রহমান বলেন, ‘পতেঙ্গা সমুদ্রসৈতকসহ চট্টগ্রামের সরকারি মালিকানাধীন বিনোদন কেন্দ্র গুলো পর্যটন করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিনোদন কেন্দ্র গুলো সরকারের জেলা প্রশাসনসহ সরকারের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। তাই এসব কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বিনোদন কেন্দ্র গুলো উন্নয়নে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয় না। বিনোদন কেন্দ্র গুলো পর্যটন করপোরেশনকে বুঝিয়ে দিলে তারপর এগুলোর উন্নয়নে করপোরেশন ব্যবস্থা নিতে পারে।’ শহর ছাড়াও উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, আনোয়ারা পারকি সমুদ্রসৈকত, বাঁশখালী ইকোপার্ক, মিরসরাইয়ের নয়নাভিরাম মহামায়া বিনোদন স্পটগুলোয় ঈদের পরে ব্যাপক লোকসমাগম হয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here